আজ ৩ আগস্ট ২০২৬ | রোজ সোমবার
আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে আমার বাবা পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন। দেখতে দেখতে তাঁর ইন্তেকালের একটি বছর পূর্ণ হয়ে গেল।
আপনাদের অনেকেই জানেন, গত এক বছরে বহুবার বাবাকে নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছি। অনেকেই তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন, কিন্তু আমি কখনো সাহস করে লিখতে পারিনি। আজ আর নিজেকে থামাতে পারলাম না।
সত্যি বলতে, বাবাকে খুব কাছ থেকে দীর্ঘ সময় পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। পড়াশোনার কারণে জীবনের বেশিরভাগ সময় মাদরাসায় কেটেছে। তবে যতটুকু সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম, সবসময় তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখেছি। হয়তো খুব বেশি কথা হতো না, কিন্তু আমাদের দু'জনের ভালোবাসায় কখনো কোনো কমতি ছিল না।
বাবা হয়তো মুখে খুব বেশি কিছু বলতেন না, কিন্তু তাঁর শাসন, আচরণ ও জীবনযাপন থেকেই আমি জীবনের অনেক বড় শিক্ষা পেয়েছি। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর সেই শিক্ষা আমার জীবনের পথচলার পাথেয় হয়ে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। যতদিন বেঁচে থাকব, তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।
সামাজিক কাজ কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক কিছুই হয়তো বাবা হাতে-কলমে শেখানোর সুযোগ পাননি। কিন্তু আমি তাঁকে যতটুকু দেখেছি, তাঁর সততা, দায়িত্ববোধ, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই পথেই চলার চেষ্টা করছি।
আরেকটি বিষয় আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। আমাদের সমাজ ও এলাকার অনেক মানুষ আজও আমার বাবাকে অত্যন্ত সম্মান করেন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে বিভিন্ন পরামর্শ কিংবা সমস্যার সমাধানের জন্য অনেকেই আমার কাছে আসেন। আমি মনে করি, সেই মর্যাদার পুরোপুরি যোগ্য আমি এখনও হয়ে উঠতে পারিনি। তবুও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। একজন ছোট মানুষ হিসেবে যদি কখনো কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আজ একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই—আমি কখনো রাজনীতিতে আসব না। আমি নেতা হয়ে নয়, বরং এই এলাকার একজন যোগ্য সন্তান হিসেবে আপনাদের খেদমত করতে চাই। কারণ ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু একজন মানুষের চরিত্র, কর্ম ও সম্মান দীর্ঘস্থায়ী। তাই আমি আমার বাবার রেখে যাওয়া ব্যবসা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সামাজিক দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করে যাব, ইনশাআল্লাহ।
🤲 আমার একটি অনুরোধ
সবশেষে, আমাদের মধুপুর খন্দকার পাড়া এলাকার সকল মানুষ, আমার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং ছোট-বড় সকল ভাইদের কাছে একটি অনুরোধ—চাইলে এটিকে আমার অসিয়তও বলতে পারেন।
আল্লাহ না করুন, যদি আমার মায়ের ইন্তেকালের আগে আমি এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেই, তাহলে আমার মাকে যেন আমার বাবার কবরের পশ্চিম পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
আর আমি যদি দেশের ভেতরে বা দেশের বাইরে—যেখানেই ইন্তেকাল করি, এই ব্যতীত অন্য যেকোনো স্থানে আমার মৃত্যু হলে আমাকে যেন আমার বাবার কবরের দক্ষিণ পাশে, অর্থাৎ তাঁর পায়ের নিচের দিকে দাফন করা হয়, যেন আমার মাথা বরাবর আমার বাবার পা থাকে।
তবে যদি ম মক্কা বা মদিনায় উমরা অথবা ফরজ হজ পালন করতে গিয়ে মৃত্যু হয়, সেক্ষেত্রে আমাকে বাংলাদেশে আনার প্রয়োজন নেই; সৌদি সরকার যেখানে দাফনের ব্যবস্থা করবে, সেখানেই আমাকে দাফন করা হবে।
সবশেষে, আপনাদের সকলের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ—আমার প্রিয় বাবার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন, তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান বানিয়ে দেন এবং তাঁর সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন।
আমার জন্যও দোয়া করবেন, যেন আমি একজন যোগ্য সন্তান হিসেবে বাবার রেখে যাওয়া দায়িত্বগুলো সততা, আমানতদারিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারি।
“হে আমার প্রতিপালক! আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।”
আল্লাহ আমার বাবা-সহ আমাদের সকল মৃত মুসলিমকে ক্ষমা করুন, তাঁদের কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমীন।